বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পুলিশ সুপার আসমা বেগম রীটা
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে অপরাধ চক্র দমন, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং সাধারণ নাগরিককে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গত জুলাই মাসজুড়ে উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
এ সময়কালে এপিবিএনের বিভিন্ন আঞ্চলিক ব্যাটালিয়ন ও বিশেষায়িত ইউনিটের সাঁড়াশি অভিযানে ৮৪৪টি উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন, সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা, ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম চোরাচালানকৃত স্বর্ণ, বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া চোরাচালানের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অপরাধমূলক ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করে জড়িত মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পুলিশ সুপার আসমা বেগম রীটা এসব সামগ্রিক তথ্য ও পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, অপরাধের মূলোৎপাটন, দ্রুততম সময়ে জরুরি নাগরিক সেবা প্রদান এবং দেশের সার্বিক জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে এপিবিএনের প্রতিটি কার্যক্রমকে আগামী দিনে আরও গতিশীল ও জোরদার করা হবে। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেল (এলআইসি) শাখার নিখুঁত তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা সহায়তার ভিত্তিতেই মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলো এসব তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, জুলাই মাসে বিভিন্ন বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম চোরাচালানকৃত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ১১টি নিয়মিত মামলা রুজু করে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের পাঁচজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৯১০ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ কসমেটিকস, ১৮৭টি উন্নতমানের শাড়ি ও থ্রি-পিস, দুটি চোরাই ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক জ্যান্ত কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড, ২৩৬ কেজি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রীসহ আরও ৪১১ কেজি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
সাইবার অপরাধ ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে পরিচালিত নিয়মিত কার্যক্রমে হ্যাকিং ও সামাজিক মাধ্যমে হয়রানির শিকার চারটি ফেসবুক আইডি ও তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত জটিলতার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেছে এপিবিএনের সাইবার টিম। একই সাথে একটি ভুয়া (ফেক) ফেসবুক আইডি সংক্রান্ত অভিযোগেরও কার্যকর সমাধান দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৩টি সক্রিয় সিম কার্ড ও একটি প্রতারক চক্রের ফেসবুক আইডি শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। অনলাইন প্রতারকদের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার ২৬০ টাকা, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা, অননুমোদিতভাবে সংগ্রহ করা ৪৮টি টি-শার্ট এবং একটি বেদখল হওয়া ই-মেইল অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে নারীদের সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলিং সংক্রান্ত দুটি স্পর্শকাতর ঘটনার সফল তদন্ত ও সমাধান নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত বার্তার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে জুলাই মাসে সারা দেশে ৫০৮ জন বিপদগ্রস্ত ও সহায়তা প্রত্যাশী নাগরিককে বিভিন্ন ধরনের তাৎক্ষণিক পুলিশি ও আইনি সহায়তা প্রদান করেছে এপিবিএন।
মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরে পুলিশ সুপার আসমা বেগম রীটা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ হাজার ৪২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার দেশি-বিদেশি মদ, বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের ২৮৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ৭২টি অবৈধ ই-সিগারেট বা ভেপ এবং ৭২টি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক বিক্রির নগদ ৬৭ হাজার ১৮০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। মাদক সংশ্লিষ্ট এসব অপরাধে মোট ১০টি মামলা দায়েরপূর্বক ১১ জন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত বিশেষ অভিযানে এপিবিএন সদস্যরা দুটি ওয়ান শুটার গান (আগ্নেয়াস্ত্র), ১৬ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি দেশীয় ধারালো দা বা হাসুয়া এবং একটি লোহার তৈরি দেশীয় ধারালো দা উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে এক অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে সড়ক ও ট্রাফিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩৩১টি মামলা দায়ের করে মোট ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সাথে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজার তদারকির অংশ হিসেবে বিএসটিআই এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের যৌথ অভিযানে আরও ৩১ লাখ ১১ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধে জড়িত ৩৬ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও আর্থিক সাজা প্রদান করা হয়েছে।
নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিজ্ঞ আদালতের বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন এবং ফৌজদারি মামলার এজাহারনামীয় ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হত্যা মামলার দুজন, স্পর্শকাতর অপহরণ মামলার তিনজন এবং ধর্ষণ মামলার দুজন কুখ্যাত আসামি রয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ও জিম্মিদশা থেকে বিভিন্ন অভিযানে ১৫ জন ভিকটিমকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন এপিবিএন সদস্যরা।
রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এলাকার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ক্যাম্পের সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২১টি যানবাহন আটক করা হয়েছে এবং তল্লাশি চালিয়ে ৮৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জুলাই মাসজুড়ে এপিবিএনের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট ও ব্যাটালিয়নে মোট ৩১টি নতুন ফৌজদারি ও বিশেষ মামলা রুজু করা হয়েছে, যার প্রতিটি মামলার নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে পুলিশ সুপার আসমা বেগম রীটা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বিত ও সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে এপিবিএনের প্রতিটি ইউনিট সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্রুততম সময়ে মানসম্মত পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভবিষ্যতেও একটি জনবান্ধব ও প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক স্মার্ট পুলিশিং ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে এপিবিএনের এই নানামুখী ও গতিশীল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।