বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

তীব্র গ্যাস সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের জনজীবন। আবাসিক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না, শিল্প-কারখানাগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং।
একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। ফলে বন্দরনগরীর পরিবহন, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। সংকটের শুরুতে সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। আগস্টের শুরু থেকে সেই সরবরাহ আরও কমে যাওয়ায় আবাসিক ও শিল্প—উভয় খাতেই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ, চান্দগাঁও, চকবাজার, বাকলিয়া, পতেঙ্গাসহ অধিকাংশ এলাকায় ভোরের পর থেকেই গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে আসে। অনেক পরিবারকে দুপুরের খাবার রান্না করতে হচ্ছে বিকেলে কিংবা গভীর রাতে। অনেকে বাধ্য হয়ে নিয়মিত হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
একই পরিস্থিতি দেখা গেছে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য সিএনজিচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। কেজিডিসিএল জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানাসহ (সিইউএফএল) বিভিন্ন বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের স্বল্পতায় উৎপাদন ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অনেক কারখানা তাদের নির্ধারিত সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্প, ইস্পাত, টেক্সটাইল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে।
পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমে গেছে। এর ফলে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনও স্বাভাবিক হবে না। এতে একদিকে গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে উৎপাদন কার্যক্রম আরও ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্প খাত।
তিনি বলেন, "অনেক কারখানাকে উৎপাদন কমাতে হচ্ছে, কোথাও কোথাও উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এতে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং উৎপাদন ব্যয়—সবকিছুই নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান শিল্প ও বন্দরনগরী। এখানে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট শুধু স্থানীয় অর্থনীতিকেই নয়, জাতীয় অর্থনীতিকেও বড় ধরনের চাপে ফেলবে। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জানা গেছে, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
এর আগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হলেও বর্তমানে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস ঘাটতি তৈরি হওয়ায় চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ গ্যাসের বড় একটি অংশ রাজধানী ঢাকার চাহিদা মেটাতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে স্থানীয় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, "সীমিত গ্যাস রেশনিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ আগস্ট দুপুরের পর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা আরও খারাপ হয়েছে। গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কমে যাওয়ায় সংকট বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।"