বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলসংলগ্ন প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ে দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকায় জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা বাতাসের কারণে বঙ্গোপসাগর ক্রমেই আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। বাতাসের গতিপথ বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় সমুদ্রের পরিস্থিতিও অস্থিতিশীল রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অস্বাভাবিক জোয়ারে দ্বীপের নিচু এলাকার অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন সড়ক ও বসতিপূর্ণ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এদিকে উত্তাল সাগরের কারণে মাছ ধরতে যেতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের প্রভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের পানি প্রায় চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। বড় বড় ঢেউ দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ছে, ফলে নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্য হাবিব উল্লাহ বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন। জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করার পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় উপকূল ক্ষয়ের ঘটনাও ঘটছে।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে সব ধরনের ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি এবং সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল শুরু করা হবে না।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানিতে দ্বীপের বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, টানা বর্ষণ ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিন উপকূলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।