বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার এন্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারখানার পঞ্চম তলায় সুইং সেকশনের এক নারী শ্রমিক মাথা ঘুরিয়ে উৎপাদন ফ্লোরে পড়ে যায়। এসময় একে একে আরো কয়েকজন বমি শুরু করে এবং মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের হাসপাতালে পাঠায়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের কালার এন্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা কারখানার প্রধান ফটকে উপস্থিত হয়। এসময় সাংবাদিককেরা ভিডিও করার সময় প্রশাসন বিভাগের লোকজন দৈনিক বসুন্ধরা পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে।
কারখানার শ্রমিকেরা জানান, কারখানার পঞ্চম তলার নারী শ্রমিক লিজা বেগম (৩৬) মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা কারখানা অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে। একই ফ্লোরে নারী শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কি কারণে শ্রমিকেরা অসুস্থ হচ্ছে তা কেউ বলতে পারেনি।

শ্রমিকেরা আরো বলেন, হঠাৎ তাদের এক নারী সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে অন্যান্য শ্রমিকেরা বমি বমি করাসহ মাথা ঘোড়ানো শুরু হয়। অনেকে চিৎকার শুরু করলে কারখানার অন্যান্য শ্রমিকেরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ফ্লোর থেকে নিচে অ্যাসেম্বলী পয়েন্টে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অনেক শ্রমিক আঘাত পেয়ে আহত হয়।
দৈনিক বসুন্ধরা পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি আশিকুর রহমান সবুজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে কারখানার সামনে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

কালার এন্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে বলেন, অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথে কারখানার ব্যবস্থাপনায় মাওনা চৌরাস্তা আলহেরা হাসপাতালের পাটিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভুল বুঝে সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর ওই সাংবাদিকের মুঠোফানে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আজকের জন্য কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে কিনা এ প্রশ্নে তিনি বলেন আমাদের পক্ষ থেকে ছুটি দেওয়া হয়নি। শ্রমিকেরা তাদের মতো করে নিজে থেকেই কারখানা থেকে বের হয়ে গেছে।
মাওনা চৌরাস্তা আলহেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. আবুল হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে অর্ধশতাধিক শ্রমিককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে পেটে ব্যাথা, বমি ও মাথা ঘুরানোর লক্ষর দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী শ্রমিক।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে শ্রমিকদের সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।