বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দাখিল করা হলফনামা ও পারিবারিক ব্যবসার নথিপত্র পর্যালোচনা করে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিমন্ত্রীর হলফনামার আংশিক চিত্র তুলে ধরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। তবে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার মাত্র ৩১ শতাংশ সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ করা হয়, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো তার পরিবারের অন্য সদস্যরা পরিচালনা করছেন।
হলফনামায় উল্লেখিত প্রতিমন্ত্রীর ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।
এর মধ্যে ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন ‘রোমা অটোরাইস মিল’ নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়।
মিলটির ক্রেতা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় মিলটি ক্রয় করেছি এবং মালামালসহ প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি উঠেছে, তাও সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়, বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে কেনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি ও বিভিন্ন শিল্পের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম বহু বছর ধরেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানি। তার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্যই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
একই মন্তব্য করে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শিরোনামের সঙ্গে ভেতরের তথ্যের সামঞ্জস্য ছিল না। হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে আংশিক প্রকাশের মাধ্যমে একজন জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই না করে এমন সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়।