বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিভিন্ন উর্দুভাষী ক্যাম্পে এখনও হাজারো পরিবার চরম সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকারের অভাবে মানবেতর দিন কাটছে তাদের।
ক্যাম্পের প্রবীণ বাসিন্দা মেহেরুন নেসা জানান, দেশে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি স্থায়ী আবাসন। ছোট্ট একটি কক্ষে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে। নির্বাচনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও পরে সেগুলোর বাস্তবায়ন আর দেখা যায় না বলে অভিযোগ তার।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, দেশভাগের পর ভারতের বিহার অঞ্চল থেকে বহু মুসলিম পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর অনেকেই পাকিস্তানে যাওয়ার আশায় ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় তাদের বড় একটি অংশ আর পাকিস্তানে যেতে পারেননি এবং ক্যাম্পেই থেকে যান।

বর্তমানে সৈয়দপুরে ২২টি উর্দুভাষী ক্যাম্পে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। অধিকাংশ পরিবার ৮ ফুট বাই ৮ ফুটের সংকীর্ণ কক্ষে বসবাস করে। একই ঘরে বাবা-মা, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের বসবাস করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধ সদস্যদের বারান্দায় রাত কাটাতে হয়।
জীবিকার তাগিদে ক্যাম্পের বাসিন্দারা নরসুন্দর, কসাই, রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, মেকানিক কিংবা গৃহকর্মীর কাজ করছেন। নারীদের অনেকে জরি ও কারচুপির কাজে যুক্ত। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক শিশুকেও অল্প বয়সে কাজে নামতে হয়।
ক্যাম্পবাসীদের দাবি, ২০০৮ সালে ভোটাধিকার পাওয়ার পরও তারা এখনও সমাজের মূলধারায় পুরোপুরি যুক্ত হতে পারেননি। নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চান তারা। উদ্বাস্তু জীবনের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসনের নিশ্চয়তা চান।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একটি ক্যাম্পের ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বর্ষা ও ঝড়ের সময় দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক পরিবার এনজিও ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে আরও সংকটে পড়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, স্বাধীনতার পর কিছুসংখ্যক বিহারি পাকিস্তানে প্রত্যাবাসিত হলেও পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়া কার্যত থেমে যায়। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ক্যাম্পগুলোতেই হাজারো মানুষ আটকে পড়ে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি ও উর্দুভাষীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব অনেকটাই কমেছে এবং পারিবারিক সম্পর্কও তৈরি হয়েছে।
উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির নেতারা জানান, দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে তারা অবহেলার শিকার। খাদ্য সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে বহু বছর আগে। অথচ আবাসন ও পুনর্বাসনের স্থায়ী কোনো উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। নির্বাচনের সময় আশ্বাস মিললেও বাস্তব অগ্রগতি খুব কম।
এ বিষয়ে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, সৈয়দপুরের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুমোদন পেলে তাদের জন্য আধুনিক বহুতল আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন ক্যাম্পবাসীরা।