বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

দেশের জ্বালানি সরবরাহ জোরদারে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় আরও দুটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। এর একটি ‘কুল ভয়েজার’, যা নাইজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে এসেছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ইন্টারপোর্ট।
অন্যদিকে, ‘গ্যাস জার্নি’ নামের আরেকটি জাহাজ চীন থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করে বন্দরে এসেছে। এটির স্থানীয় এজেন্ট ইউনাইটেড শিপিং।
সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ রেফায়েত হামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) আমদানি না হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইআরএল-এ তেল এসেছিল।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ মজুদ তা দিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদক সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে দুটি জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় রয়েছে। যেকোনো সময় খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। তবে জাহাজ দুটিতে কী পরিমাণ জ্বালানি রয়েছে, তা তিনি জানাতে চাননি।
তিনি আরও জানান, সবমিলিয়ে বর্তমানে চারটি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস চলছে। এর মধ্যে ৩১ মার্চ ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ নামে একটি জাহাজ এসেছে এবং ৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামে একটি জাহাজ এসেছে। ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ থেকে এলপিজি খালাস করা হচ্ছে ভাটিয়ারিতে। অন্যদিকে, বন্দরের ডলফিন জেটিতে অবস্থান করা ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ জাহাজ থেকে খালাস করা হচ্ছে ডিজেল।
সূত্র জানায়, ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫শ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমান সংকট বিবেচনায় পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫শ টন করা হয়েছে।
গত রোববারের তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে। এর বাইরে মজুদ ট্যাঙ্কের তলানিতে জমে থাকা ‘ডেডস্টক’ রয়েছে প্রায় ১০ হাজার টন এবং পাইপলাইনে রয়েছে আরও ৫ হাজার টন। পাইপলাইনের এই তেল বিশেষভাবে পাম্প করে ট্যাঙ্কারে আনতে হবে। সব মিলিয়ে মাত্র ৫ দিন চলার মতো কাঁচামাল অবশিষ্ট আছে।
সূত্র আরও জানায়, গত ১ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য একটি কোম্পানিকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর আগে দেশে নতুন করে অপরিশোধিত তেল পৌঁছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে ইআরএল-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে থমকে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।