বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরা । ফাইল ছবি: প্রথম আলো
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটির কারণে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংক বন্ধ থাকলেও তৈরি পোশাক কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকবে।
পোশাকশিল্প মালিকদের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, উৎপাদন যথারীতি সচল রাখা হলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী শ্রমিক-কর্মচারীরা তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য ছুটি নিতে পারবেন, যা তাঁদের বাৎসরিক নৈমিত্তিক কিংবা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করা হবে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দুর্গাপূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এবার ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে ১২ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বেসরকারি খাতের কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছুটি নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শ্রম আইন অনুযায়ী মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বছরের শুরুতে ট্রেড ইউনিয়ন বা কারখানা অংশীদারত্ব কমিটির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বার্ষিক মোট ১৩ দিনের উৎসব ছুটির ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হয়। সাধারণত দুই ঈদে ছয় দিনসহ স্বাধীনতা দিবস, মে দিবস ও বিজয় দিবসের মতো দিনগুলো এই তালিকায় জায়গা পায়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এ তালিকায় দুর্গাপূজার সাধারণ ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকে না। ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মীরা তাঁদের অর্জিত বা নৈমিত্তিক ছুটি ব্যবহার করে উৎসবে অংশ নেন।
এদিকে কারখানা মালিকদের শ্রম আইন মেনে উৎসব ছুটি বণ্টনের জন্য গত বুধবার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর বিজিএমইএর নিজস্ব ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিছু গণমাধ্যম সেই অভ্যন্তরীণ অফিসিয়াল নোটিশটিকে কারখানার সাধারণ ছুটি হিসেবে প্রচার করায় শিল্প মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে সেই ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে ২২ অক্টোবরের অফিস ছুটি প্রত্যাহার করে নেয় সংগঠনটি।
তবে এই ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার। তিনি মন্তব্য করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের দুর্গাপূজার ছুটি যদি তাঁদের অর্জিত বা ব্যক্তিগত ছুটি কেটে দেওয়া হয়, তবে সেটিকে কোনোভাবেই উৎসব ছুটি বলা যায় না। ফলে সংখ্যালঘু শ্রমিকরা তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে কার্যত উৎসব ছুটির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।