বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের ওপর পরনির্ভরশীলতা শূন্যে নামিয়ে এনে শতভাগ দেশি জনবলের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, ‘অর্ধ শতকের পুরোনো এই শিল্পে আজও অনেক কারখানায় বা বায়িং হাউজে বিদেশি এনে কাজ করাতে দেখা যায়। কিন্তু আমাদের নিজেদের পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার মতো মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা রয়েছে। শুধু দেশেই নয়, একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা ও মানসম্মত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের মেধাবী পেশাজীবীদের একদিন অন্যান্য দেশও উচ্চ পদে নিয়োগ দেবে।’
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক এক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই প্রযুক্তি মেলার দ্বিতীয় দিনে এই বিশেষ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের তরুণ সমাজের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের উচ্চ চাহিদা তৈরিকে সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান শিক্ষাক্রম সংস্কারের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা, উৎপাদনমুখী শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক মেলবন্ধন তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে বাস্তব রূপ দেওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তৈরি পোশাক খাতকে জাতীয় অর্থনীতির আবেগ ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে মাহ্দী আমিন স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি ও সরাসরি নগদ প্রণোদনার মতো যুগান্তকারী নীতি প্রবর্তনের মাধ্যমেই এ দেশের পোশাক শিল্পের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও এই খাতের অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু করা, রপ্তানি প্রণোদনা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিজিএমইএ ও বিটিএমএ-সহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সাথে কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে এ খাতের আধুনিকায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
পোশাক কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, প্রযুক্তির অজুহাতে কোনো অবস্থাতেই পোশাক শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া কিংবা তাদের কর্মহীন করা যাবে না। সাধারণ মেহনতি মানুষের অক্লান্ত ঘাম ও ত্যাগের ওপর ভর করেই এই খাত আজকের বৈশ্বিক অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। ফলে শিল্পে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং মানবসম্পদের স্বার্থ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের প্রধান নীতি।
শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত তাত্ত্বিক জ্ঞান ও কারখানার বাস্তব কাজের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচিয়ে সেতুবন্ধন তৈরির তাগিদ দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চতর স্নাতকোত্তর ও বিশেষায়িত ডিপ্লোমা কোর্স চালুর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইন্টার্নশিপ, নিয়মিত ক্যারিয়ার মেলা এবং গবেষণাধর্মী ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়া পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ চালু করতে তরুণ উদ্ভাবকদের প্রাথমিক মূলধন বা সিড মানি জোগান দেওয়ার বিষয়টিও সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে দেশের পোশাক খাত, শিক্ষাঙ্গন এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা বক্তব্য দেন।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সপোর্ট বন্ড ও আইটি বিভাগের সদস্য ফারজানা আফরোজ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) উপাচার্য ইঞ্জিনিয়ার ড. আইয়ুব নবী খান, এইচঅ্যান্ডএম-এর রিজিওনাল কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের করপোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিংয়ের কান্ট্রি হেড শাদাব হোসেন এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব গ্লোবাল অ্যাপারেল সাপ্লাই চেইন আশফাকুর রহমান।
আলোচনা সভা সমাপ্তির পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উদ্ভাবনী মেলার বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের প্রদর্শিত নানা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রত্যক্ষ করেন।