Walton
ads
D Diamond

যশোরে সময় টিভির সাংবাদিকের উপর পুলিশের হামলা; দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড

জীবন আচার্য্য, যশোর প্রতিনিধি

বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪, বিকাল ৭:৫৭

IMG_20240403_185615_079.jpg

যশোরে সংবাদ সংগ্রহকালে বেসরকারি টেলিভিশন ''সময় টিভির'' যশোর জেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মৃধা ও ক্যামেরা পারসন আবুল কালাম আজাদের উপর হামলা চালিয়েছে পুলিশ। এসময় উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করে নিয়ে যান। এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, (৩ এপ্রিল) বুধবার দুপুরে বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে আহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে যান "সময় টিভির "যশোর জেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মৃধা ও ক্যামেরাম্যান আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এসময় পুলিশের দুই সদস্য হাফিজ ও রবিউল তাতে বাধা দেন। তাদের কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে পুলিশের ঐ দুই সদস্য ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের দুই সদস্যকে ক্লোজড করে নিয়ে যান এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক জুয়েল মৃধা জানান, বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে আহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের ছবি সংগ্রহ করতে হাসপাতালে যান। এসময় আহত ওই দুই ব্যক্তির ছবি নিতে গেলে পুলিশ সদস্য হাফিজ ও রবিউল তাতে বাধা দেন। এমনকী চিত্র সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদকে গলা টিপে দেয়ালে ঠেসে ধরেন। ঠেকাতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য সাংবাদিকদের গ্রেফতারেরও হুমকি দেন। এ খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান যশোরের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদিকে সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানান তারা।

সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান বলেন, পুলিশের এহেন কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তিনি সাংবাদিক লাঞ্ছনাকারী দুই পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ জামান বলেন, পুলিশের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরনের তীব্র নিন্দা ও আগামীতে এমন ঘটনা রোধে ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করেন।

বিএফইউজের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নূর ইসলাম বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এমন ঘটনা স্বাধীন মত প্রকাশে বড় ধরনের বাধা। ওই দুই পুলিশ সদস্যের এমন শাস্তি হোক যেন আগামীতে এমন ঘটনা না ঘটে।

প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করেছে। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখার অপেক্ষায় রয়েছি। ঘটনার পর যশোর ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর রূপন কুমার সরকারসহ পুলিশ কর্মকর্তারা প্রেসক্লাব যশোরে আসেন। তারা জুয়েল মৃধা, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমানসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নেওয়া হবে বলে জানান।