বিএম কনটেইনার ডিপোর পণ্য নিয়ে জটিলতা

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২, দুপুর ২:০৩

999.webp

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া ৮০০ কনটেইনার আমদানি ও রফতানি পণ্য নিয়ে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ১৬২টি গার্মেন্টেসের ৬০০ কনটেইনারভর্তি তৈরি পোশাক দ্রুত বিদেশে পাঠাতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। বাকি ২০০ কনটেইনারে আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। কিন্তু কাস্টমসের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ পণ্য ডিপোতেই আটকে রয়েছে।

বিজিএমইএ-র সবশেষ তথ্যানুযায়ী, সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোর চার দিনের আগুন থেকে অন্তত ৮০০ আমদানি ও রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার রক্ষা পেয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বায়ার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এসব পণ্য দ্রুত রফতানির নির্দেশনা দেয়া হলেও নানা জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া আরও প্রায় ২০০ কনটেইনার আমদানি পণ্য রয়েছে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ-র সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘যেসব পণ্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে, সেগুলো রফতানিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আগুন লাগার পরদিন ৫ জুন, বিএম কনটেইনার ডিপোর সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে চিঠি ইস্যু করেন চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম।

আগুন নেভার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও বিএম ডিপোর কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ অবস্থায় অক্ষত রফতানিযোগ্য কনটেইনারগুলো জাহাজে তুলে দেয়ার পাশাপাশি আমদানি কনটেইনার দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা নিতে কাস্টমকে চিঠি দিয়েছে অফডক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)।

বিকডা মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, যতদ্রুত সম্ভব এ তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে আমদানি ও রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনারগুলোর একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

তবে ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়াতে বিএম কনটেইনার ডিপোর আমদানি-রফতানি পণ্য ছাড় করার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে বলে দাবি কাস্টমস কর্মকর্তার। চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার মো. নূর উদ্দিন মিলন বলেন, কাস্টমসের মাধ্যমে এর ইনভেন্টরি সম্পন্ন হওয়ার পর এবং এর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি ঠিক থাকে, তাহলে অচিরেই এসব পণ্য তারা রফতানি করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ৪ জুন রাতে সৃষ্টি হওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এ আগুনে ৪৯ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় চার শতাধিক মানুষ। আগুনে পুড়ে যায় ১৫১টি প্রতিষ্ঠানের আড়াইশর বেশি কনটেইনার পণ্য।